মাওলানা হারুনূর রশিদ!!

একদিন ফজরের নামাজের পর, যখন নিযামুদ্দীনের মসজিদে এই কাজে অংশ-গ্রহণকারীদের বড়মজমা ছিল এবং হযরত মাওলানা এত দুর্বল ছিলেন যে, বিছানায়শায়িত অবস্থায়ও দু-চার শব্দ জোরে বলতে পারছিলেন না। এ অবস্থায়এক খাস খাদিমকে ডাকলেন এবং তার মাধ্যমে পুরা মজমাকে লক্ষ করে বললেন, ‘আপনাদের এই সকল চলাফেরা এবং সকল চেষ্টা-প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েযাবে যদি না এর সাথে ইলমে দ্বীন ও আল্লাহর যিকরের বিষয়েপুরাপুরি যত্মবান হন। ইলম ও যিকর হচ্ছে দু’টি ডানার মতো, যা ছাঙা শূন্যে ওঙা সম্ভব নয়। বরং প্রবল আশংকা আছে, ঐ দুই বিষয়েঅবহেলা করা হলে এই মেহনত-মুজাহাদা-আল্লাহ না করুন- ফিতনা ও গোমরাহির এক নতুন কারণ হয়েদাড়াবে।

দ্বীনের ইলমই যদি না থাকে তাহলে তো ঈমান ও ইসলাম একটি নাম সর্বস্ব ও প্রথাগত বিষয়েপরিবর্তন হবে। তদ্রূপ আল্লাহর যিকর ছাড়া ইলম যদিও থাকে তা তো পুরাপুরি অন্ধকার। আর এ কারণেই ইলমে দ্বীন ছাড়া যিকরুল্লাহর আধিক্য বড়আশংকাজনক। এককথায়, ইলমের মাঝে নূর আসে যিকরের দ্বারা। আর যিকরের প্রকৃত সুফল ও বরকত হাসিল হবে ইলমে দ্বীন দ্বারা। অনেক ক্ষেত্রেই জাহিল সূফীদেরকে শয়তান তার হাতিয়ার বানিয়ে নেয়। সুতরাং এই বিষয়েইলম ও যিকরের গুরুত্ব কখনো ভোলা যাবে না। সর্বদা এর দিকে বিশেষ যতœ দেওয়া চাই। নতুবা আপনার এই তাবলীগী কাজকর্মও শুধু ইতস্তত ঘুরাফেরায়পর্যবসিত হবে এবং আল্লাহ না করুনÑ আপনারা কঠিন ক্ষতির শিকার হয়েযাবেন।

(এই নির্দেশনায়হযরত মাওলানার উদ্দেশ্যে এই ছিল যে, এ কাজের কর্মীরা দাওয়াত ও তাবলীগের পথের মেহনত-মুজাহাদা, সফর ও হিজরত এবং ঈছার ও কোরবানিকেই মূল কাজ মনে করবেন না। যেমনটা আজকাল ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে, বরং দ্বীনী ইলমের চর্চা, যিকরুল্লাহর অভ্যাস এবং আল্লাহর সাথে সম্পর্ক সৃষ্টি করাকেও নিজের কর্তব্য জ্ঞান করবেন। অন্যভাষায়তাদের শুধু ‘সৈনিক’ ও ‘ভলান্টিয়ার’ নয়, ইলমে দ্বীন অন্বেষণকারী ও আল্লাহকে স্মরণকারী বান্দাও হতে হবে।) -মালফূযাত : ৩৫

* বললেন, ইলম থেকে আমল পয়দা হওয়া চাই আর আমল থেকে যিকির। তাহলেই ইলম ইলম হবে এবং আমল আমল হবে। ইলম থেকে যদি আমল পয়দা না হয়তাহলে তা পুরাপুরি অন্ধকার আর আমল থেকে যদি আল্লাহর স্মরণ পয়দা না হয়তাহলে তা প্রাণহীন। আর ইলমহীন যিকর হচ্ছে ফিৎনা। -মালফূযাত : ৬৩

* বললেন, আমাদের তাবলীগী কর্মীদের তিন শ্রেণীর মাঝে তিন উদ্দেশ্যেই বিশেষভাবে যাওয়া উচিত :
এক. উলামা ও সালেহীনের খিদমতে, দ্বীন শেখা ও দ্বীনের উত্তম প্রভাব গ্রহণ করার জন্য।
দুই. নিজের চেয়েনীচের স্তরের মানুষের মাঝে, দ্বীনের কথা প্রচারের মাধ্যমে নিজের পূর্ণতা ও নিজের দীনদারীতে মজবুতী আনার জন্য।

তিন. বিভিন্ন শ্রেণীর মাঝে, তাদের বিভিন্ন গুণ নিজের মাঝে আহরণ করার জন্য। -মালফূযাত : ৮৬
এক প্রসঙ্গে বলেন, এ বিষয়ের এক মূলনীতি এই যে, স্বাধীন ও স্বেচ্ছাচারী না হওয়া চাই; বরং নিজেদেরকে ঐ সকল বড়দের পরামর্শের অধীন রাখুন, যাদের উপর দ্বীনের বিষয়েঐ সকল পূর্বসূরী আস্থা প্রকাশ করেছেন, আল্লাহর সাথে যাঁদের সম্পর্ক সর্বজনবিদিত ও সর্বজনস্বীকৃত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর সাহাবায়েকেরামের সাধারণ নীতি এ-ই ছিল যে, তারা ঐ-ব্যক্তিত্বদের উপরই বেশি ভরসা করতেন, যাদের উপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশেষ আস্থা রেখেছেন। এঁদের পর ঐ সব ব্যক্তিবর্গই অধিক আস্থাযোগ্য গণ্য হয়েছেন যাদের উপর হযরত আবু বকর ও হযরত ওমর রা. আস্থা রেখেছেন। দ্বীনের বিষয়েনির্ভর করার জন্য খুব সতর্ক নির্বাচন জরুরি। অন্যথায়বড়রকমের গোমরাহীর আশঙ্কা আছে। -মালফূযাত : ১৪৩

হযরত মাওলানা ইলিয়াস রহ. বলেন, ওলামায়ে কেরামের নিকট এই কথা বলবে যে, তাবলীগ জামাতের মেহনত-মোজাহাদা এবং চেষ্টা-প্রচেষ্টা দ্বারা সাধারণ মানুষের মাঝে শুধু দীনের তলব এবং মর্যাদা পয়দা করা সম্ভব এবং তাদেরকে শুধু দীন শেখার উপর উদ্বুদ্ধ করা সম্ভব।
পরবর্তীতে দীনের তালীম ও তরবিয়্যাতের কাজ ওলামায়ে কেরাম এবং নেককার লোকদের তাওয়াজ্জুহ দ্বারাই সম্ভব হবে।
কাজেই আপনাদের মতো বুযুর্গদের মনোনিবেশ অত্যন্ত জরুরি। -মালফুজাতে হযরতজী ইলিয়াস রহ.: পৃ,১৩৯

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here