আগামীকাল বৃহস্পতিবার হতে যাচ্ছে বিরল ধরনের বলয় গ্রাস সূর্যগ্রহণ। এটি বছরের শেষ সূর্যগ্রহণ । সূর্যগ্রহণটি বাংলাদেশ থেকে প্রথম দেখা যাবে সকাল ৮টা ৫৯ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে এবং শেষ হবে দুপুর ১২টা ৫ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয় চাঁদ ও সূর্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। কারও মৃত্যু বা জীবনের কারণে এ দুটোয় গ্রহন লাগে না। অতএব তোমরা যখন তা দেখবে আল্লাহকে ডাকো, তাকবীর দাও, নামাজ পড়ো ও সদকা করো।

আয়েশা রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে একবার সূর্য গ্রহণ লাগল। তখন তিনি লোকজন নিয়ে নামাজ পড়লেন। তিনি দীর্ঘ কিয়াম করলেন। এরপর তিনি রুকু করলেন ও রুকুতে দীর্ঘক্ষণ থাকলেন। অতঃপর তিনি দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘক্ষণ কিয়াম করলেন। এটা রুকুর পূর্বের কিয়ামের অতিরিক্ত। তারপর আবার রুকু করলেন এবং রুকুতে দীর্ঘক্ষণ থাকলেন। এটা প্রথম রুকুর অতিরিক্ত। তারপর তিনি সিজদা করলেন এবং সিজদায় দীর্ঘক্ষণ থাকলেন। তিনি দ্বিতীয় রাকাতেও প্রথম রাকাতের মতোই করলেন। অতঃপর গ্রহণ কেটে যাওয়ার পর তিনি নামাজ বন্ধ করলেন। এরপর তিনি মানুষের সামনে বক্তৃতা করলেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণাবলী বর্ণনা করে বললেন নিশ্চয় সূর্য ও চাঁদ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের দু»টি নিদর্শন।কারো মৃত্যু বা জীবনের কারণে এদের গ্রহণ লাগে না। সুতরাং তোমরা যখন তা দেখবে, তখন আল্লাহকে ডাকবে, তাকবীর দেবে, নামাজ পড়বে এবং সদকা করবে।

সূর্য গ্রহণের নামাজের পদ্ধতি 

যখন  সূর্য গ্রহণ লাগে, তখন জামাতে নামাজ আদায় করার জন্যে মানুষকে ডাকবে। মানুষ যখন জমায়েত হবে তখন ইমাম তাদের নিয়ে দীর্ঘ দু রাকাত নামাজ পড়বে। নীরব আওয়াজে কিরাত পড়বে। প্রথম রাকাতে পড়বে সূরা ফাতিহা এবং অপর একটি দীর্ঘ সূরা। এরপর রুকু দেবে। এরপর দীর্ঘ দুই সিজদা করবে। অতঃপর দ্বিতীয় রাকাত, কিয়াম ও রুকু সিজদায়, প্রথম রাকাতের মতোই আদায় করবে। তবে সবকিছুই পরিমাণে প্রথম রাকাতের চেয়ে কম হবে। এরপর বসবে, তাশাহ্হুদ পড়বে ও সালাম ফিরাবে।

সূর্য গ্রহণের নামাজের আরও একাধিক পদ্ধতি রয়েছে। পদ্ধতি নির্ণয়ে ঝগড়া না করে এ সময়ে ইবাদতে দোয়া  রোনাজারিতে  মগ্ন থাকা উচিত।

সূর্যগ্রহণ সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার

চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ নিয়ে আমাদের সমাজে কিছু কুসংস্কার প্রচলিত আছে। এসব কুসংস্কার থেকে আমাদের বেঁচে থাকা উচিত। কিছু মানুষ মনে করেন, চন্দ্র বা সূর্য গ্রহণের সময় যদি গর্ভবতী মহিলা কিছু কাটাকাটি করেন, তাহলে গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতি হয়। কানকাটা বা ঠোটকাটা অবস্থায় জন্ম নেয়।

আমাদের মনে রাখা উচিত,  এটি একটি সম্পূর্ণ ভুল বিশ্বাস। বাস্তবতার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। শরীয়তে যেমন এর কোনো ভিত্তি নেই তেমনি বিবেক-বুদ্ধিও এ ধরনের অলীক ধারণা সমর্থন করে না। অতএব এ ধরনের বিশ্বাস পোষণ করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ : কী বলে আধুনিক বিজ্ঞান

সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ সম্পর্কে অতীতে অনেক কুসংস্কার ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল এবং বর্তমানেও আছে, কিন্তু প্রায় দেড় হাজার বছর আগে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যে তাৎপর্য উল্লেখ করেছিলেন তার সঙ্গে অধুনা পর্যবেক্ষণলব্ধ জ্ঞানের কোনোই সংঘর্ষ নেই; বরং আমরা বিশ্বাস করি, এই জ্ঞান যত অগ্রসর হবে তাঁর বাণীর সত্যতা ততই উদ্ভাসিত হবে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘… সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ হল আল্লাহ তাআলার (কুদরতের) দুটি নিদর্শন।’ বলাবাহুল্য, এটাই হচ্ছে এ বিষয়ে সর্বশেষ কথা। সূর্য ও চন্দ্রের গতি, দূরত্ব, কক্ষপথ ইত্যাদি সম্পর্কে যে পরিমাণ তথ্য পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আহরিত হয়েছে তার দ্বারা কি প্রমাণ হয় না যে, আমাদের এই সৌর-জগত এক সুসংহত নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে? যার কারণে আজ আমরা ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারছি যে, আগামী শত বছর পর আবার পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা দিবে! বলাবাহুল্য, এই সুসংহত পরিচালনা তার পরিচালকের সীমাহীন কুদরতকেই প্রমাণ করে।

কিন্তু আফসোস যে পর্যবেক্ষণ-শক্তি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পরিচয়ের পথে সহায়ক হতে পারত, আধুনিক জাহিলিয়াত তাকে নিয়ে গেছে উল্টো পথে। মানুষ তার পর্যবেক্ষণশক্তিতে এতই অভিভূত হয়ে গিয়েছে যে, এর তাৎপর্য অনুধাবনের ফুরসৎটুকু আর তার নেই।
অতীতের জ্ঞানহীন মানুষ কুসংস্কারে আচ্ছন্ন হয়ে দেবদেবীর শরণ নিত আর বর্তমানের জ্ঞানগর্বী মানুষ জ্ঞানের গর্বে আত্মহারা হয়ে আমোদ-উল্লাসে মেতে উঠেছে। প্রশ্ন এই যে, চরিত্র ভিন্ন হলেও উভয় শ্রেণী কি একই বিভ্রানি-তে নিপতিত নয়? কেউ কি বলে দিতে পারেন, এই দুই প্রানি-কতার মাঝে কোনটা উত্তম, কোনটা অধম?

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here