বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের ১০ বছরপূর্তি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুর ১২ টা থেকে মাগরিব পর্যন্ত বায়তুল মোকাররমের পশ্চিম পাশে এ সমাবেশ চলে।

সারা দেশ থেকে যুব মজলিসের নেতাকর্মীরা এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে। এ সময় তারা হাতে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা বহন করে।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মাওলানা মামুনুল হক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আমীর মাওলানা ইসমাঈল নুরপুরী ও মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক।

আরো বক্তব্য রাখেনে, মুফতী সাখাওয়াত হুসাইন রাজী, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী,মাওলানা গাজী ইয়াকুব, আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা এনামুল হক মুসা, মাওলানা ফজলুর রহমান প্রমুখ।

এছাড়া জেলা প্রতিনিধিরাও বক্তব্য রাখেন।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, মজলুম মানবতার পক্ষে আমরা আছি। পৃথিবীর যেখানেই যেকোনো জনপদে যেকোনো জনগোষ্ঠীর কোনো মানুষ নির্যাতনের শিকার হবে তার স্বপক্ষে আমরা বলিষ্ঠভাবে সমর্থণ ও সংহতি ব্যক্ত করতে চাই। কাশ্মীর, সিরিয়া, আরাকানের মুসলমানদের অধিকার ফেরত চাই। বিশেষ করে কাশ্মীরের মুসলমানদের উপর ভারতীয় আধিপত্যবাদের জুলুম নির্যাতন ও কাশ্মীর মুসলমানদের স্বাধীনতা হরণ আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। কাশ্মীরের মুসলমানদের প্রতি আমরা সংহতি প্রকাশ করছি।

তিনি আরও বলেন, ভারতের অযোধ্যায় ৫০০ বছরের পুরনো বাবরি মসজিদের স্থলে রাম মন্দির নির্মাণ চক্রান্ত আমরা কোনোভাবেই বরদাশত করতে পারিনা। আমরা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছি, যেকোনো মূল্যে মুসলিম উম্মাহকে সাথে নিয়ে বাবরি মসজিদ পুনরুদ্ধারে ভূমিকা পালন করবো। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার পাশাপাশি মুসলিম বিশ্ব ও জাতির সাথে সহযোগিতা ও সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন প্রতিহত করার চেষ্টা চালিয়ে যাব। আমরা দেশ ও দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের চক্রান্ত, অপকৌশল প্রতিহত করার জন্য আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা ঈসমাঈল নূরপুরী বলেন, আমাদের দেহে এক ফোঁটা রক্ত থাকা পর্যন্ত আমরা আল্লাহর জমিনের দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করে যাবো। বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসে এ অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, এ সরকার যথা সময়ে যুব মজলিসের সম্মেলন করতে না দিয়ে তার ফ্যাসিবাদী আচরণের দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে। আজকের এ সম্মেলন প্রমাণ করে ১০ বছরের নগণ্য সময়ে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস বিশাল সফলতায় এ দাঁড়িয়েছে। এখলাসের সাথে আত্মিক বলে বলিয়ান হয়ে সংগঠনের কাজকে দুর্বার গতিতে এগিয়ে নিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মামুনুল হক আরও বলেন, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার নানামুখী চক্রান্ত চলছে। সরকার দেশকে বাহ্যিক কিছু উন্নয়নের চমক দেখিয়ে প্রকৃত অর্থে দেশকে সামনের দিকে অগ্রসর করার পরিবর্তে নানাভাবে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রটিকে দুর্বল ও পরনির্ভর জাতি হিসেবে পরিণত করছে। সরকার বিচার বিভাগকে ভঙ্গুর মেরুদন্ডহীন একটি বিভাগে পরিণত করেছে। সরকারের আরেকটি বিভাগ প্রশাসন অনৈতিকতার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে। সব স্তরের স্বজনপ্রীতি দুনীর্তি দলপ্রীতি জেঁকে বসেছে। প্রশাসনকে দিয়ে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যরাতে নির্বাচন করিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করার কারণে প্রশাসন আজ বেপরোয়া। অনেক ক্ষেত্রে সরকারের নিয়ন্ত্রন তাদের ওপর নেই। কারণ সরকার তাদেরকে অনৈতিক কাজে ব্যবহার করেছে। সারাদেশে গুম সন্ত্রাস চলছে। নানা অভিযোগে দেশের বিশিষ্টজনদেরকে সাদা পোশাকে তুলে নেওয়া হচ্ছে। অনেকদিন পর আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর কাছে তাদের পাওয়া যাচ্ছে।

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, দেশে ধর্মনিরপেক্ষতার আড়ালে একটি বিশেষ ধর্ম ও একটি বিশেষ মতাদর্শপন্থীদের প্রশাসনে ব্যাপকভাবে পদায়ন করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তারা আনুপাতিক হারের চেয়ে অনেক বেশি সুযোগ পাচ্ছে। এটি মূলত ধর্মনিরপেক্ষতার আড়ালে একটি বিশেষ ধর্মাবলম্বীপন্থীদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনভাবে কথা বলা, জনগণের মৌলিক অধিকার ও মিছিল মিটিং করার যতোগুলো জায়গা ছিলো সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একমাত্র জায়গা রয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। সেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে দুই মাস ধরে সরকারি দল দখল করে আছে। আমরা একবছর আগ থেকে আবেদন করেও যথাসময়ে বরাদ্ধ পাইনি। এমনকি দুই দফা তারিখ পিছিয়েও আমাদের সুযোগ দেওয়া হয়নি। ডিসেম্বরর শুরুতে সরকারের কোনো প্রোগ্রাম নেই। তবুও তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান দখল করে আছে।

তিনি বলেন, মানুষের জীবনের মৌলিক জীবন উপকরণ ও দ্রব্য মূল্যের লাগামহীন মূল্য, পেয়াজের দর শুধু বাংলাদেশের ইতিহাস নয় বিশে^র ইতিহাসে রেকর্ড ব্রেক করে এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের অবস্থা সৃষ্টি করেছে। গোটা বাংলাদেশে আজ হাহাকার চলছে। অধিকাংশ নিত্য প্রয়োজনীয় মূল্য মানুষের নাগালের বাইরে। এ অবস্থা চলতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, আল্লাহ, আল্লাহর রাসুল ও ধর্মের বিরুদ্ধে বিষোদগারের একের পর এক ঘটনা ঘটে চলছে। এর বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন একান্ত প্রয়োজনীয়। সরকারের কাছে বারবার এ কথার দাবি জানিয়েও কোনো সুফল এ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

তিনি সম্মেলন থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেন, জরুরি জীবনোপকরণ ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতির প্রতিবাদ ও আল্লাহ, আল্লাহর রাসুল এবং ধর্মের বিরুদ্ধে বিষোদগারের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে দেশের জেলায় জেলায় সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করছি।

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন রাবেতাতুল ওয়ায়েজীনের সেক্রেটারি মাওলানা হাসান জামিল, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা মুহসিনুল হাসান, সহ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরের সভাপতি মাওলানা রুহুল আমিন খান, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল মুমিন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সংগঠন বিভাগের সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিভাগের সম্পাদক মাওলানা জহিরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের সম্পাদক ও ঢাকা মহানগরীর সভাপতি মাওলানা রাকিবুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ বিভাগের সম্পাদক মাওলানা শরীফ হুসাইন, খুলনা জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা ওয়ালী উল্লাহ, নড়াইল জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ আবুল কালাম আজাদ, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ আলী, নরসিংদী জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আনোয়ার মাহমুদ, নেত্রকোনা জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মাজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ জাকির হুসাইন, সভাপতি পরিষদ সদস্য আবু নাইম, মোশাররফ হুসাইন লাবীব প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here