হুমায়ূনের পিতা ফয়েজ উদ্দীন আহমেদ ‘নয়া যামানা’ পত্রিকায় চাকুরী জীবনের শুরুতে মুহিউদ্দীন খানের সাথে কাজ করেছেন। হুমায়ূন নাকি তখন হাফপ্যান্ট পরে বাবার সাথে অফিসে এসেছিলেন। খান সাহেব তাকে কোলে নিতেই বুকের কলমটা টান দিয়ে নিয়ে এসে আঁকতে থাকেন হুমায়ূন আহমেদ।

খান সাহেবের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রবন্ধের উপর দাগ দিতে দিতে নষ্ট করে ফেলেন সেটি। খান সাহেব কিছু না বলে ছোট্ট খোকার সাহস ও দুষ্টুমি দেখে কেবল হাসছিলেন। হুমায়ূনের বাবার চেহারা লজ্জা আর রাগে লাল হয়ে এলো। ‘কর কি, কর কি? হুজুর আমার ছেলেকে আমার কাছে দেন’ বললেন হুমায়ূনের বাবা।

কবি তালিম হুসেন তখন হাসতে হাসতে বললেন, এই ছেলে এখনি যে কাজ করেছে, বড় হয়ে না জানি কলম দিয়ে কি করে। খানের পকেট থেকে কলম নিয়ে লেখা শুরু করেছে, বাপরে বাপ! এই ঘটনা হুমায়ূন আহমেদ জেনেছেন তাঁর বাবার কাছে। সেদিন এই ঘটনাটি তিনি আমাদের শোনালেন।

হুমায়ূনের শেষ জীবনে ধর্মচিন্তার প্রভাব পড়েছিল। আর তা ছিল মুহিউদ্দীন খানের সাহচর্য লাভের ফল। কলম জাদুকরের শেষ লেখা ছিল ‘নবীজি’। কেন নবীজির সীরাতে নিয়ে উপন্যাস লিখা শুরু করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ? কার প্রভাবে? এজন্য তিনি কি কি গ্রন্থ সংগ্রহ করেছিলেন? সে এক বিস্ময়কর ঘটনা।

সীরাত বিষয়ক রচনা ‘নবীজি’ লিখতে লিখতে ইহলোক ত্যাগ করেন। হুমায়ূন আহমেদ নবীজির জীবন লিখা শুরু করেই হঠাৎ লেখা বন্ধ করে দিলেন। এই খেয়ালে যে ‘যাকে নিয়ে লিখব, তাকে স্বপ্নে অনেকেই দেখেছেন। আমিও দেখতে চাই’।

এই ছেলেমানুষি আর জেদ নিয়ে সর্বশেষ হাজির হয়েছিলেন, নবীপ্রেমিক, সীরাত সাহিত্যের প্রবাদ পুরুষ মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের কাছে। এটাই শেষ দেখা।

‘নবীজি’ লেখার ব্যাপারে হুমায়ূন আহমেদ একাধিকবার মাওলানা মুহিউদ্দীন খান, মোস্তফা জামান আব্বাসী, অন্যপ্রকাশের মাসুম ভাই ও আমার সাথে আলাপ-আলোচনা করেছেন। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে কোনো এক বিকেলে নুহাশ পল্লীর লীলাবতী দিঘির ঘাটলাতে হাজির হলাম। নবীজি লিখা কবে শেষ করছেন? জানতে চাইলে পুকুরে বরশি ফেলতে ফেলতে তিনি বলেছিলেন, ‘ধুর মিয়া, আগে নবীজিকে দেইখ্যা লই। তারপর ‘নবীজি’ আবার শুরু করব’। সূত্র : বিভিন্ন পত্রিকা

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here