বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জি’র কারণে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে একের পর এক মিথ্যাচার করছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন মোদি সরকার। সম্প্রতি নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ পড়াদের জন্য কোনো ‘বন্দিশালা’ তৈরি করা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। কিন্তু তার দাবিকে মিথ্যা আখ্যায়িত করেছেন আসামের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার আসামে মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি একজন মিথ্যাবাদী। কারণ ২০১৮ সালে (তরুণ গগৈ মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে) আসামে বন্দিশিবির বানাতে তিনি ৪৬ কোটি রুপি দিয়েছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর দাম দাঁড়ায় ৫৪ কোটি ৭০ লাখ ৯৩ হাজার ৭৭৬ টাকা।

প্রধানমন্ত্রী মোদি বন্দিশালা নেই বলে দাবি করলেও বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দ এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। কারণ ২০১৪ সালের নির্বাচনের পূর্বে মোদি বলেছিলেন যে, নির্বাচনে জয় লাভ করলে বন্দিশালা বন্ধ করে দিবেন। বিরোধীদের দাবি, যদি দেশে বন্দিশালা না থাকে, তাহলে প্রধানমন্ত্রী মোদি কেন বন্দিশালা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিবেন।

সাবেক মুখ্যমন্ত্রী গগৈ বলেন, ‘বাজপেয়ী সরকারের আমলে প্রথম বন্দিশিবিরের কথা শোনা যায়। বলা হয়েছিল, যে বিদেশিরা অনুপ্রবেশের পর কারাগারে আছে, তাদের কারাবাসের মেয়াদ ফুরিয়ে গেলে আটকে রাখা হবে বন্দিশিবিরে। নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর বৃহত্তম বন্দিশিবির বানাতে ৪৬ কোটি রুপি দিয়েছিলেন। সেখানে তিন হাজার মানুষকে রাখার কথা হয়েছিল। এখন তিনি কীভাবে বলছেন যে, দেশে কোনও বন্দিশিবির নেই?’

তরুণ গগৈ ২০০১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত আসামে কংগ্রেস সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তিনি জানান, তার আমলেই সেখানে বন্দিশিবির তৈরি করে বিজেপি সরকার। গুয়াহাটি হাইকোর্ট বলেছিল, যারা ঘোষিত বিদেশি, তাদের রাখার জন্য ডিটেনশন ক্যাম্প বানাতে হবে। তরুণ গগৈ বলেন, মোদি সরকার এখন ‘মুখরক্ষার জন্য’ বলছে, দেশে কোনও ডিটেনশন সেন্টার নেই।

আসামের সাবেক এ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৪ সালে মোদি যখন প্রধানমন্ত্রী হলেন, তিনি যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে রাজ্যগুলোর সঙ্গে অনুপ্রবেশকারী বা ডিটেনশন সেন্টার নিয়ে আলোচনা করেননি। এমনকি বাংলাদেশের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেননি। এখন তিনি সবাইকে বোঝাতে চাইছেন, সরকার খুব উদার। আমরা কাউকে আটক করি না।’

তরুণ গগৈ বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা বা তাদের আটকের ক্ষেত্রে কারও ধর্মীয় পরিচয় দেখা উচিত নয়। তার ভাষায়, ‘বাস্তবে ডিটেনশন ক্যাম্পে মুসলিমদের চেয়ে হিন্দুরাই বেশি আছেন। কে এই হিন্দুদের আটক করেছে? বিজেপিই করেছে।’

আসামের সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী চান, ডিটেনশন ক্যাম্পে বেশি কড়াকড়ি করা উচিত নয়। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, আটক হওয়া ব্যক্তিদের তিন বছর পর মুক্তি দিতে হবে। সুতরাং তার জন্য ব্যবস্থা করতে হবে।

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here