তুরস্কের ইস্তাম্বুল দূতাবাসে সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার রায় নিয়ে বিশ্বব্যাপী সমালোচনার মুখে পড়েছে সৌদি আরব। তুরস্ক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, সৌদি আদালত ন্যায়বিচার করতে ব্যর্থ হয়েছে।

সৌদি আরবের প্রসিকিউটররা জানান, খাসোগি হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট ৩১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়। এদের মধ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। রায়ে আটজনের বিরুদ্ধে শাস্তি ও তিনজনকে খালাস দেয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের কারও নাম প্রকাশ করা হয়নি।

এ রায়ের প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘের বিশেষ দূত অ্যাগনেস ক্যালামার্ড হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, এই রায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়নি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে খাসোগির খুন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, এর জন্য সৌদি আরব দায়ী। খাসোগি হত্যার রায়কে ‘ন্যক্কারজনক’ আখ্যা দিয়েছে তুরস্ক। দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগানের প্রেস সহকারী ফাহরেত্তিন আলতুন টুইটারে বলেন, যারা ব্যক্তিগত বিমানে করে ইস্তাম্বুলে ডেথ স্কোয়াড (হত্যাকারী দল) পাঠাল, আর এই হত্যাকাণ্ডকে আড়ালে রেখে দিতে চাইল তাদের দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে। তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই রায় আমাদের এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খাসোগিকে খুন একটি নৃশংস অপরাধ। এই নৃশংসতার ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার তার পরিবারের রয়েছে। সৌদি আরবকে অবশ্যই দায়ী সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে, যাতে এ ধরনের নৃশংসতা আর না ঘটে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মুখপাত্র আহমেদ বেনচেমসি বলেন, রায় সন্তোষজনক নয়। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মামলাটি নিয়ে গোপনীয়তা অবলম্বন করেছে সৌদি আরব।

মুখোশ পরিহিত অভিযুক্তদের পরিচয় এবং কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে তা জানানো হয়নি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সৌদি আরবের রায়কে ‘হোয়াইট ওয়াশ’ আখ্যা দিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, এতে ন্যায়বিচারও যেমন হয়নি, তেমন খাসোগি ও তার প্রিয়জনদের সামনে সত্য উন্মোচন করেনি।

এদিকে রায়কে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, এই ভয়ানক অপরাধে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করার ক্ষেত্রে এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। নিহত জামাল খাসোগির ছেলে সালাহ খাসোগি রায়কে স্বাগত জানিয়ে টুইট করেছেন। তিনি বলেন, এতে নিহতের পরিবারের সদস্যদের যন্ত্রণা কিছুটা হলেও কমবে।

প্রসঙ্গত, খাসোগি হত্যার পর এর নির্দেশদাতা হিসেবে আঙুল ওঠে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের দিকে। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে প্রথমে এ হত্যাকাণ্ডের খবর অস্বীকার করা হয়।

পরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্বীকার করলেও এর সঙ্গে যুবরাজের সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করে দেশটি। তবে তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবেই খুন করা হয় মোহাম্মদ বিন সালমানের কঠোর সমালোচক খাসোগিকে। মার্কিন তদন্ত সংস্থা সিআইএ জানায়, যুবরাজই সম্ভবত খুনের নির্দেশ দিয়েছেন।

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here