নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে উত্তাল গোটা ভারত। গত সোমবার বিলটি পাস হয়েছিল লোকসভায়, বুধবার ১১৭-৯২ ভোটে পাস হলো রাজ্যসভায়। এরপরই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভের আগুনে জ্বলে ওঠে দেশটির উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোতে। 

আসাম ও ত্রিপুরায় একাধিক বাস ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ত্রিপুরায় গুলি চালায় পুলিশ। গুয়াহাটিতে জারি হয় কার্ফু। বহু জায়গায় বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবা।

এছাড়াও নাগরিকত্ব বিলের বিরুদ্ধে ভারতজুড়ে শুরু হয়েছে ছাত্র আন্দোলন। কলকাতার প্রেসিডেন্সি এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাগরিকত্ব বিলে আগুন দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্ররা। অনশনে বসেছে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও।

বিলের প্রতিবাদে গুয়াহাটিতে মঙ্গলবার দুপুর থেকে রাজপথে নেমে পড়েন কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। প্রতিবাদে শামিল হন গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও আসাম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসহ বেশির ভাগ কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। দিসপুরে যাওয়ার পথে মূল সড়ক গুয়াহাটি-শিলং রোড অবরোধ করেন তারা। অবরোধ ওঠাতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ।

ডিব্রুগড়ের চাউলধোওয়ায় পুলিশের লাঠিতে গুরুতর আহত হয় অনেক ছাত্র। বিক্ষোভের জেরে ডিব্রুগড় ও গুয়াহাটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে যাবতীয় পরীক্ষা অর্নির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। রাতের দিকে একাধিক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা।

মঙ্গলবার বিকেল থেকেই নাগরিকত্ব বিল এবং এনআরসির বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন শুরু করে কলকাতার ছাত্ররা। তাদের দাবি, নাগরিকত্ব বিল অগণতান্ত্রিক। এই বিল আইন হলে আন্দোলন আরো বাড়বে বলেই হুমকি দিয়েছে ছাত্ররা। এদিকে, আগুন লাগিয়ে প্রতিবাদ জানায় ছাত্ররা। উত্তরপ্রদেশের আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়েও আন্দোলন শুরু করে ছাত্ররা। বুধবার তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে পুলিশ।

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here