ভারতের লোকসভায় সদ্য পাস হওয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দমাতে ত্রিপুরা ও আসামের কয়েকটি এলাকায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

বিতর্কিত এই বিলের প্রতিবাদে উত্তর-পূর্বের ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে বনধ ডাকা হয়। প্রধান সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদে শামিল হন বিক্ষোভকারীরা।

বুধবার ছাত্র সংগঠনের বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। গুয়াহাটি বিমানবন্দরে আটকা পড়েন আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল। পরে কোনোরকমে মুখ্যমন্ত্রীকে শহরের ভিতর দিয়ে নিয়ে যান তার নিরাপত্তারক্ষীরা।

বিক্ষোভ দমাতে উত্তর-পূর্বে পাঁচ হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলেও এনডিটিভি জানিয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের এই বিল নিয়ে রাজ্যের বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই বিল জাতিগত পরিচয় হরণ করবে।

আগরতলায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে শুরু করার পরই যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়া হয়।

রাজ্য সরকারের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে অশান্তি তৈরির চেষ্টার খবর পাওয়ার পরেই এসব পরিষেবা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

বিভিন্ন ইসলামপন্থী, বিরোধী ও মানবাধিকার গোষ্ঠীর দাবি, ভারতের ২০ কোটি মুসলমানকে কোণঠাসা করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডারই অংশ এই আইন।

উত্তরপূর্ব ভারতের স্থানীয়রা বিভিন্ন কারণে এই আইনের বিরোধীতা করছেন। তাদের আশঙ্কা, এতে বাংলাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক হিন্দু অভিবাসীর ঢল নামবে।

বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের মধ্যে স্যান্ডউইচের মতো অবস্থিত অঞ্চলটির বাসিন্দারা এসব অভিবাসীদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে মনে করেন।

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here