ভারতে মুসলিমবিরোধী বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল প্রত্যাখ্যান করে বিষয়টিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটির মুসলমানদের সর্ববৃহৎ সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ।

বিবৃতিতে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি কারী সাইয়্যেদ উসমান মানসুরপুরী ও সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা সাইয়্যেদ মাহমুদ মাদানী অভিযোগ করে বলেন, বিলটি সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করছে। ওই অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের আইনের সমধিকারের কথা বলা হয়েছে। বিলটি ‘অসাংবিধানিক’ এবং ‘বিভেদ সৃষ্টিকারী’ বলেও ব্যাখ্যা করেন তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ নাগরিকত্ব বিলটিকে ভারতীয় সংবিধানের বিপরীত মনে করছে। জমিয়ত দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে এটি পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার অনুমোদন পাবে না। বিতর্কিত আইনটি যেন কোনোভাবেই পাস না হয়, এ জন্য দেশপ্রেমিক নাগরিক ও সব দলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।

এদিকে সোমবার বিল পেশের আগে দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ দেখান অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (এআইইউডিএফ) সংসদ সদস্য বদরুদ্দিন আজমল। সিএবি নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি অংশের মানুষ।

বিলটির বিরোধিতা করে ত্রিপুরায় অনির্দিষ্টকালের জন্য হরতালের ডাক দিয়েছে ত্রিপুরার ‘জয়েন্ট মুভমেন্ট এগেইনস্ট সিটিজেনশিপ এমেন্ডমেন্ট বিল’ নামে নতুন একটি সংগঠন। রাজ্যের আদিবাসী নেতৃত্বাধীন সংগঠনটির ডাকে সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের হরতাল কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

গত সপ্তাহেই ৬৪ বছরের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন প্রশ্নে বিলটিকে ছাড়পত্র দেয় মন্ত্রিসভা। গত জানুয়ারিতে লোকসভায় পেশ হয়েছিল সংশোধিত বিলটি। বিরোধিতার মুখে সেবার তা পাস হয়নি।

এতে বলা হয়েছিল, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু, শিখ, জৈন, পার্সি, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে। কিন্তু মুসলিম শরণার্থীদের বিষয়টি বিলে অনুচ্চারিত থাকে। ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনে বলা হয়, অন্তত ১১ বছর ভারতে থাকলে তবেই কোনো ব্যক্তিকে নাগরিকত্ব দেয়া হবে। নতুন বিলে তা কমিয়ে পাঁচ বছর করা হয়েছে। অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ সালের আগে যারা ভারতে এসেছেন, তারাই নাগরিকত্ব পাবেন।

এ বিলের বিরোধিতা করেছে বিজেপির দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময়ের বন্ধু শিবসেনা। দলের মুখপাত্র ‘সামনা’য় প্রকাশিত সম্পাদকীয়তে শিবসেনা জানায়, শুধু হিন্দু অনুপ্রবেশকারীদের নাগরিকত্ব দিয়ে ‘ধর্মযুদ্ধে’ ইন্ধন জোগাচ্ছে মোদি সরকার।

হিন্দু ও মুসলিম, এ দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে অদৃশ্য বিভাজন তৈরির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। নাগরিক সংশোধনী বিলের আড়ালে এলে ভোটব্যাংকের রাজনীতি চলছে। এ বিল জনস্বার্থের পরিপন্থী। সূত্র : যুগান্তর

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here