কয়েক দশক ধরে শিল্পায়ন, পর্যটন ও দূষণের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিশ্ব ঐতিহ্য ও মুঘল স্থাপত্য তাজমহল। ভারতের দিল্লিতে সাম্প্রতিক বায়ুদূষণেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আগ্রায় অবস্থিত এই স্মৃতিসৌধটি।

ওয়ান ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অব্যাহত দূষণের কারণে তাজমহলের রং ক্রমশ ধূসর হয়ে যাচ্ছে। সাদা মার্বেলে পড়ছে হলদেটে ছোপ। আগের তুলনায় দ্রুতগতিতে ক্ষয় হচ্ছে স্থাপনাটির। স্মৃতিসৌধের মেঝে ও দেয়ালগুলোতে ক্ষতির চিহ্ন দেখা দিতে শুরু করেছে।

এই ক্ষতি ঠেকাতে পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। পর্যটকরা যাতে স্মৃতিসৌধের দেয়াল স্পর্শ করতে না পারে সে জন্য ব্যারিকেড বসানো হবে। অপরিবর্তনীয় মার্বেল খোদাই করে দেয়ালকে রক্ষা করা হবে। স্থাপনাটির সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে স্মৃতিসৌধের মূল গম্বুজকে ঘিরে থাকা বিশাল ‘চামেলি ফার্স’-এর চাতালে ৪০০টি পাথর প্রতিস্থাপনের জন্য দরপত্র ডাকা হয়েছে।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অধিকাংশ পাথরের ব্লক লাল বেলেপাথরের তৈরি। এর মধ্যে কিছু সাদা মার্বেল পাথর রয়েছে। প্রত্যেক ব্লকে ১ থেকে ৯ বর্গফুট আয়তনের পাথর লাগবে। পাথর প্রতিস্থাপনে খরচ পড়বে মোট ২২ লাখ টাকা। জানা গেছে, রাজস্থানের বংশী পাহাড়পুর থেকে এই পাথর আনা হবে। ১৬৪৮ সালের পর এই প্রথমবার তাজমহলের চামেলি ফার্সে বড় ধরনের সংস্কারের কাজ করা হবে।

এদিকে আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, মঙ্গলবার তাজমহলের গেটের বাইরে দুটো বিশালাকার বায়ু পরিশোধক ভ্যান দাঁড় করানো হয়েছে। উত্তর প্রদেশের দূষণ নিয়ন্ত্রণকারী বোর্ড এই বায়ু পরিশোধক যন্ত্রগুলো বানিয়েছে। একটি মেশিন তার চারপাশে ৩০০ মিটারের মধ্যে ১৫ লাখ কিউবিক বায়ু ৮ ঘণ্টায় পরিশোধন করতে সক্ষম। আগ্রা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আর কে রাঠি জানান, বায়ুদূষণের হাত থেকে তাজমহল ও পর্যটকদের রক্ষা করতেই এ ব্যবস্থা।

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here