বিজ্ঞানীরা মহামারি করোনাভাইরাসের প্রতিরোধ ও ভ্যাকসিন আবিষ্কারের জন্য খুঁজছিলেন করোনায় আক্রান্ত প্রথম রোগীটিকে।

তারা মনে করেন ‘পেশেন্ট জিরো’ রোগীকে ভালভাবে পরীক্ষা করলে প্রতিরোধের উপায় এবং ভ্যাকসিন বের করা সহজ হবে। অবশেষে মিলেছে সেই পেশেন্ট জিরো রোগী।

ইন্ডিয়া টাইমস ও বিজনেস ইনসাইডার জানায়, প্রথম করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন চীনের হুবেই প্রদেশের ৬৭ বছর বয়সী নারী ওয়েই গুইশিয়ান। তিনি চীনের উহান শহরের বাজারে চিংড়ি মাছ বিক্রি করতেন।

ওয়েই গুইশিয়ান গত বছর ১০ ডিসেম্বর হুনান সি ফুড মার্কেটে চিংড়ি বিক্রি করার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে ফ্লুয়ের মতো উপসর্গ নিয়ে স্থানীয় একটি হাসপাতালে যান তিনি। সেখানে চিকিৎসার পরও তিনি ক্রমশ দুর্বল হতে থাকেন।

দিন দুয়েক পরই উহানের ইলেভন্থ হাসপাতালে যান। সেখানেও ধরা পড়েনি এই করোনাভাইরাস। ১৬ ডিসেম্বর ওই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় উহান ইউনিয়ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান গুইশিয়ান। আর সেই হাসপাতালেই তাকে বলা হয় যে, শরীরে কঠিন রোগ বাসা বাঁধছে।

এরপরই ওই হাসপাতালে বাড়তে থাকে রোগীর সংখ্যা, যাদের সবার শরীরেই গুইশিয়ানের মতো একই ধরনের উপসর্গ।

ডিসেম্বরের শেষের দিকে ওয়েই গুইশিয়ানকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। তাকে পরীক্ষা করে তার শরীরে মেলে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি। সে সময় ডাক্তারদের ধারণা, উহানের ওই সামুদ্রিক খাবার বিক্রির মার্কেট থেকেই ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস।

পরে অবশ্য গুইশিয়ান জানান, তিনি যে টয়লেট ব্যবহার করতেন, সেই টয়লেট বাজারের অন্যান্য মাংস বিক্রেতারাও ব্যবহার করতেন। তার ধারণা ওই টয়লেট থেকেই এই ভাইরাস তাকে আকান্ত করেছে।

উহান মিউনিসিপাল হেলথ কমিশনের তরফে নিশ্চিত করে বলা হয়েছে যে, প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন যে ২৭ জন রোগী তাদের মধ্যে প্রথমেই ছিলেন ওয়েই গুইশিয়ান।

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here