হিজরি নবম বর্ষে মুসলমানদের ওপর পবিত্র হজ ফরজ হওয়ার পরে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছে। ইসলামধর্মের এই পঞ্চম স্তম্ভ আদায়ের উদ্দেশ্যে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য মুসলমান মক্কা মুকাররমায় সমবেত হয়।

কিন্তু বিগত চৌদ্দশো বছরে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ একাধিকবার এমন কিছু কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে যার কারণে তারা ফরজ বিধান হজ যথাসময়ে আদায় করতে পারেনি। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা হজের মৌসুমে হজযাত্রীদের মক্কায় আসতে বাধা দিয়েছে।

যে কারণে হজযাত্রীরা হজ করতে আসতে পারেনি- এরমধ্যে শত্রুর ভয়, বন্যা ও মহামারির মতো একাধিক প্রতিবন্ধকতা উল্লেখযোগ্য। এই সময়গুলিতে স্বল্পপরিসরে অল্পসংখ্যক মুসল্লিদের উপস্থিতিতে হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।

আর ইদানিং বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ওমরাহ পালনে যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে তা আগের সব সমস্যা ছাড়িয়ে গেছে। সৌদি প্রশাসন করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে ইতিমধ্যেই ওমরাহ পালন সহ মক্কা মুকাররমায় প্রবেশে সাধারণ যাত্রীদের জন্যও সীমাবদ্ধতা জারি করেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, খুব শিগগির যদি করোনার উদ্ভুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয় তাহলে চলতি বছরের মূল হজের কার্যক্রমেও বিধিনিষেধ আসতে পারে- যা আগের সমস্যাগুলির চেয়ে আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে।

ইতিহাসে যে কয়বার হজ পালনে মুসল্লিরা বাধার মুখে পড়েছেন এমন কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করা হল:

১৮১৪ সালে হেজাজ ভূমিতে দেখা দিয়েছিল প্রাণঘাতি প্লেগ- এতে আক্রান্ত হয়ে এ অঞ্চলে অন্তত ৮ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেছিল। এই মৌসুমে হজ পালনে কঠিন বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল বিশ্ববাসীর। এর কয়েকবছর পরে ১৯৩৭ সালেও একটি মহামারি হানা দেয় আরব অঞ্চলে। এই মহামারি ১৮৯২ সাল নাগাদ স্থায়ী হয়েছিল- এর মধ্যকার সময়ে এক দিনেই ১ হাজার হজযাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল।

১৮১৭-১৮২৪ সালে এশীয় অঞ্চলে কলেরা মহামারির রূপ ধারণ করেছিল। ভারতের কলকাতা শহর থেকে এই রোগের বিস্তার ঘটে এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব আফ্রিকা ও ভূমধ্যসাগরের উপকূল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। এর আগেও ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে কলেরা আক্রমণ করে- যা ইংরেজ সেনাবাহিনিসহ হাজার হাজার ভারতীয়র মৃত্যুর কারণ হয়।

এই মৌসুমে হজ পালন করতে আসা কয়েক হাজার ভারতীয় মুসল্লি মক্কার পথে থাকা অবস্থায়ই ইন্তেকাল করেন। এর পরে ১৮৩১ সালেও ভারতে কলেরা হানা দেয় এবং এতেও বহুসংখ্যক হাজি সাহেবের ইন্তেকাল হয়।

১৯৬৩ সালে আরেকবার ভারত থেকে কলেরার প্রাদুর্ভাব ঘটে। যার প্রভাব ইউরোপ ও আফ্রিকা পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং এতেও অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ১৮৫৮-১৮৬৪ সালে মিসরে এক মহামারির আবির্ভাব হয়-এতেও শতশত হজযাত্রীর মৃত্যু হয়। যার কারণে এসব মৌসুমে মক্কার পবিত্র কাবা গৃহে মুসল্লিদের সমাগম কম হয়।

আল জাজিরা অবলম্বনে বেলায়েত হুসাইন

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here