ঐক্য

সকলেই ঐক্য চায়। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে সফলতা আসবে একথাও সকলেই মানে। অনৈক্যের কারণে আমরা পিছিয়ে পড়ছি এ কথার সঙ্গেও দ্বিমত করবে না কেউ। ঐক্য চেয়ে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বিবৃতি ও লেখালেখিও কম হয়নি। তারপরেও ঐক্য হচ্ছে না, এটাই বাস্তবতা। কেন হচ্ছে না কাঙ্খিত ঐক্য? ঐক্যের পথে বাধা কোথায়?

আমি মনে করি, ঐক্যের পথে বড় বাধা হচ্ছে পরস্পর অবিশ্বাস ও আস্থাহীনতা। আমরা যদি পরস্পর আরো কাছাকাছি আসতে পারি। কিছুটা ছাড় দিয়ে হলেও একে অন্যের কাছে যাতায়াত অব্যাহত রাখি, একদল অন্যদলের  প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে থাকি, বিশেষ করে জাতীয় ইস্যুগুলোতে ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে এক কাতারে দাঁড়িয়ে যাই, আমার বিশ্বাস, তাহলে আমাদের ভেতর জমে থাকা অবিশ্বাস ও আস্থাহীনতার বরফের পাহাড় ধীরে ধীরে গলে যাবে।

দ্বিতীয়তঃ আমাদের কথা ও কাজে আন্তরিকতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। আমরা যদি আন্তরিকভাবেই ঐক্য চাই তাহলে আমার বিশ্বাস কোন শক্তি এই ঐক্য ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। বি-বাড়িয়ার বড় হুজুর মাওলানা সিরাজুল ইসলাম রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলতেন, “আমাদের  ঐক্য চাওয়ার মানে হল- তুমি আমার দলে চলে আসো !”
অর্থাৎ আমার নেতৃত্বে ঐক্য হলে আমি ঐক্য চাই। যতদিন আমাদের ভেতরে এই ধরনের মনোভাব থাকবে ঐক্য হবে না, বিভেদ বাড়তেই থাকবে।

তৃতীয়তঃ আমাদের ভেতরে ছাড় দেয়ার মানসিকতা দিন দিন লোপ পাচ্ছে। আমরা যদি শরীয়তে ঐচ্ছিক এমন বিষয়গুলোতে একে অন্যকে ছাড় দিতে পারি এবং শরীয়ত কর্তৃক বাধ্যবাধকতার বিষয়গুলোতে আল্লাহর উপর ভরসা রেখে আমল করতে থাকি, এখানে নিজের বুদ্ধি কিংবা স্বার্থকে সামনে না নিয়ে আসি তাহলে সহজেই ঐক্য গড়ে উঠতে পারে।

শেষ কথা হচ্ছে- পদের মোহময়তা আমাদেরকে অবশ্যই ছাড়তে হবে। জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে প্রয়োজনে আগে নিজের পদ থেকে সরে আসার ঘোষণা দিতে হবে।
আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ায় আমরা অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হতে পারব। আর মনে রাখতে হবে আমরা যদি বর্তমান সময়ে ঐক্যবদ্ধ না হতে পারি তো হয়তোবা আমাদের সকলকেই এর খেসারত দিতে হবে।

1 COMMENT

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here